[:en]বাঘের আক্রমণে মৃত্যু; বিধবাদের করুণ জীবন[:]

0

[:en]সুন্দরবন প্রতিবেদক : সংস্কৃতি ও সংস্কারের বাইরেও কুসংস্কার আছে বিভিন্ন অঞ্চলে। আমাদের দেশও এর ব্যতিক্রম নয়। আধুনিকতা, ধর্মীয় অনুশাসন ও শিক্ষার অভাবে বিভিন্ন কুসংস্কারে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে সুন্দরবন সংলগ্ন জনপদ। তেমনই একটি গল্পের প্রধান চরিত্র সোনামনি।সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার আলোচিত নারী মুখ এই সোনামনি। ভালোই চলছিল স্বামী-সন্তান নিয়ে সংসার। জীবন-জীবিকার তাগিদে স্বামী নিয়মিত ছুটে চলেন সুন্দরবনে। হঠাৎ একদিন স্বামীকে জীবন দিতে হয় বাঘের আক্রমণে। স্বামীর মৃত্যুর কারণে এক মাসের শিশু সন্তানসহ শাশুড়ি তাড়িয়ে দেন সোনামনিকে।পরে দেবর বিয়ে করে সোনামনিকে। একদিন বাঘের আক্রমণে মৃত্যু হয় দ্বিতীয় স্বামীরও। এরপর থেকেই ‘অপয়া’, ‘অলক্ষ্মী’, ‘স্বামীখেকো’ অপবাদ মাথায় নিয়েই চলছে সোনামনির জীবন।

আরেক ‘বাঘ-বিধবা’ বুলি দাশী। স্বামী অরুণ মণ্ডল সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে নিহত হন। স্বামীর মৃত্যুর জন্য তাকেই দায়ী করে নির্যাতন করতে থাকেন শাশুড়ি। এক পর্যায়ে স্বামী খেকো অপবাদ দিয়ে বাড়ি থেকেই তাড়িয়ে দেন।একুশ শতকের ডিজিটাল যুগে এসেও বাঘের আক্রমণে নিহত ব্যক্তিদের স্ত্রীদের এমনই পরিণতি বরণ করতে হচ্ছে সুন্দরবনের আশপাশের এলাকাগুলোতে। সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ এলাকায় গিয়ে এমনই চিত্র দেখা গেছে। কথা হয়েছে কয়েকজন ‘বাঘ-বিধাবা’র সাথে। তারা বলেছেন, অনেক ক্ষেত্রে জীবিত থেকেও মৃতের মতো জীবন কাটাতে হচ্ছে তাদের।

সুন্দরবন নিয়ে কাজ করা ব্যক্তি ও সংস্থাগুলো বলছে, সুন্দরবনকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের কুসংস্কার লালন-পালন করে আসা স্থানীয়দের মধ্যে এখন বন্যতা খানিকটা হলেও কমেছে। সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার আলোচিত মুখ সোনামনির দুই স্বামীকে জীবন দিতে হয়েছে বাঘের আক্রমণে। তার মুখ দেখলে তাই কেউ শুভ কাজে বের হয় না বলে জানান তিনি। সোনামনি বলেন, ‘১৯৯৯ সালে আমার স্বামীকে বাঘে ধরে নিয়ে যায়। সে কারণে কোলের এক মাস বয়সী সন্তানসহ আমার শাশুড়ি আমাকে তাড়িয়ে দেন। তখন আমাকে সন্তান নিয়ে পথে পথে ঘুরতে হয়েছে। পরে আমার দেবর আমাকে বিয়ে করে। ২০০৩ সালে তাকেও বাঘে ধরে। এরপর থেকেই আমাকে ‘অপয়া’, ‘অলক্ষ্মী’, ‘স্বামীখেকো’ অপবাদ মাথায় নিয়ে থাকতে হয়। কোনো অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিলেও খেতে দেয় সবার শেষে। ’

সোনামনি আরো বলেন, ‘সকালে উঠে যেন আগে আমার মুখ দেখতে না হয়, তাই শাশুড়ি আমাকে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখেন। এ জীবন তো মৃত্যুর মতোই। স্বামী গেল বাঘের পেটে, আমাকেও মেরে রেখে গেল। ’

আরেক ‘বাঘ-বিধবা’ বুলি দাশী বলেন, আমার স্বামী অরুণ মণ্ডল ২০০২ সালে সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে নিহত হন। এর জন্য আমাকেই দায়ী করে নির্যাতন করতে থাকেন শাশুড়ি। একপর্যায়ে বাড়ি থেকেই তাড়িয়ে দেন। আমার বাবা মারা গেছে অনেক আগেই। তাই ভাইয়ের বাড়ি গিয়ে ওঠি। কিন্তু ভাইও তো গরিব, তাই নদীতে রেণুপোনা ও কাঁকড়া ধরে সংসার চালাতে শুরু করি। এভাবেই ছেলেমেয়েদের বড় করেছি।

বুলি দাশী আরো বলেন, আমার মতো এমন অনেক মেয়ে আছে, যাদের স্বামী বাঘের হাতে মারা যাওয়ার পর তাদের অপয়া বলে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আমার স্বামীর ছোট ভাইও বাঘের আক্রমণে মারা যায়। তার বউ দিপালীকেও বাপের বাড়ি তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।[:]

Print Friendly, PDF & Email
Share.

Leave A Reply

Inline
Error occured while retrieving the facebook feed
Inline
Error occured while retrieving the facebook feed