৩০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ , রাত ১০:৫৮ , বৃহস্পতিবার

ধর্ষণকারীর সঙ্গে ধর্ষিতা মেয়ের বিয়ে নিষিদ্ধ হচ্ছে বাংলাদেশে

0

নওরোজ প্রতিবেদন:  সরকার বাল্যবিরোধ আইনের যে খসড়া বিধিমালা চূড়ান্ত করেছে, তাতে ধর্ষণকারী বা অপহরণকারীর সঙ্গে কোন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বিয়ে দেয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সরকারের একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি মঙ্গলবার বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের এই বিধিমালার খসড়া চূড়ান্ত করে।

বাংলাদেশের নারী অধিকার কর্মীরা এর আগে এই আইনের সমালোচনা করছিলেন এই বলে যে, এতে ‘বিশেষ পরিস্থিতিতে’ বাল্যবিবাহ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশের নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ বলছেন, যে বিধিমালাটির খসড়া চূড়ান্ত হলো তাতে বলা হয়েছে ধর্ষক, অপহরণকারী বা জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনকারীর সঙ্গে বাল্য বিয়ে দেওয়া নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। খসড়াটি এখন আইন মন্ত্রণালয়ে যাবে, তারপর অনুমোদনের জন্য সংসদে।

তিনি বলছেন, “আমরা বিধিমালায় পরিষ্কারভাবে বলেছি, ধর্ষণের শিকার অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েকে ধর্ষকের সাথে বিয়ে দেয়া যাবে না।”

ব্যাপক সমালোচনার মুখে বাংলাদেশে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ পাশ হয়।

এই আইনের ১৯ ধারায় বলা হয়েছিল, বিশেষ পরিস্থিতিতে, আদালত ও অভিভাবকের সম্মতিতে ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়েদের বিয়ে দেয়া যাবে।

এক্ষেত্রে কোন পরিস্থিতি বিশেষ পরিস্থিতি বলে বিবেচিত হবে সেটি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ ছিল না।

আর সেখানেই ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলো সরকার।

বাংলাদেশে ধর্ষণের শিকার মেয়েদের সালিশের মাধ্যমে ধর্ষকের সাথে বিয়ে দেয়ার একটি সামাজিক রীতি প্রচলিত রয়েছে। আপোসে এমন বিয়ের মাধ্যমে ধর্ষক প্রায় সময় বিচার এড়িয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

নারী অধিকার কর্মীদের আশংকা ছিল বাল্যবিবাহ আইনের ১৯ ধারা অপব্যবহার করে বাল্য বিয়ের সুযোগ বাড়বে।

এই ধারা আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছেন মানবাধিকার আইনজীবী সালমা আলী। তিনি বলছেন ১৯ ধারাটিই বাতিল করা প্রয়োজন।

তিনি বলছেন, “আমাদের প্রথম কাজ হবে অপরাধটা যাতে না হয় সেটা দেখা। হলে সরকার ও প্রশাসন ভিক্টিমের পক্ষে থাকবে। আইনে যা আছে সেই অনুযায়ী বিচার হবে।”

তবে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নীনা গোস্বামী বলছেন ধর্ষকের সাথে বিয়ে দেয়া যাবে না বলে যে বিধিমালা আসতে যাচ্ছে সেটি ১৯ ধারার ঘাটতি কিছুটা মেটাবে। তিনি বলছেন, “আইনটা করার আগেই ১৯ ধারাটা না রাখার জন্য আমরা বারবারই বলেছিলাম। কোন অপরাধীর সাথেই যাতে বিয়ে হতে না পারে সেজন্য কোন একটা বিধি রাখার জন্য আমরা সুপারিশ করে আসছিলাম। যেহেতু আইনটা যেহেতু পাশ হয়ে গেছে তাই এই বিধি কোনও না কোনভাবে অন্তত একটা ব্যাকআপ দেবে।”

Print Friendly, PDF & Email
It's only fair to share...Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn

Leave A Reply