৩০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ , রাত ১১:০২ , বৃহস্পতিবার

বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে সমতার বিধান

0

নওরোজ ডেস্ক :   ধনবাড়ি উপজেলার কেন্দুয়া উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গত কয়েক মাস যাবত্ বিদ্যুিৎবিহীন অবস্থায় আছে। বিদ্যুৎ বিল বকেয়ার অজুহাতে চার মাস আগে ধনবাড়ি পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে। অথচ প্রতিনিয়ত সরকারি এই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটিতে গড়ে প্রায় ২০০ হইতে ২৫০ জন রোগী চিকিৎসা  সেবা নিইতে আসেন। উপরন্তু ঐ অঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের নিকট এই প্রতিষ্ঠানটিই চিকিৎসা  সেবার একমাত্র সহজতর অবলম্বন।

বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে আসা রোগীদের চিকিৎসা  ও অন্যান্য সেবা প্রদানে যথেষ্ট সমস্যা হইতেছে। তাহা ছাড়া সংরক্ষণ করা যাইতেছে না প্রয়োজনীয় মূল্যবান ঔষধপত্রও। এমতাবস্থায় পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের বিষয়টি ভাবিয়া দেখা অত্যাবশ্যক হইয়া পড়িয়াছে।

বিদ্যুৎ বিলের বকেয়া আদায় করিবার নিমিত্ত বিদ্যুত্ কর্তৃপক্ষ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করিবার অধিকার সংরক্ষণ করেন কী করেন না—সেই বিতর্কে আমরা নাই বা গেলাম। কিন্তু অল্প কিছু বকেয়া বিলের জন্য জনগণের চিকিৎসা  সেবা পাইবার অধিকার ব্যাহত করা যে অমানবিক—তাহা সহজেই অনুমেয়। আমরা জানি, দেশে বিদ্যুতের বকেয়া বিল পরিশোধে গাফিলতি পরিলক্ষিত হইতেছে বৎসরের পর বৎসর ধরিয়া।

বিদ্যুৎ বিলের বকেয়া আদায়ে ছয় বিতরণ সংস্থার চারটিই পূরণ করিতে পারে নাই লক্ষ্যমাত্রা। বিদ্যুৎ বিভাগে সর্বশেষ বিতরণ কোম্পানিসমূহ যে প্রতিবেদন দিয়াছে তাহাতে দেখা যায়, বিতরণ কোম্পানিসমূহের মোট বকেয়ার পরিমাণ ৫ হাজার ৩৫৮ কোটি ৫২ লক্ষ টাকা। বেসরকারি বিলের তুলনায় সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও দফতর বিদ্যুৎ বিল লইয়া বেশি ভোগাইতেছে বলিয়া বিতরণ কোম্পানির প্রতিনিধিরা জানাইয়াছেন।

সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বারংবার তাগাদা দিলেও তাহারা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করিতে চাহেন না। অথচ ওইসব প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ এখনো বহাল তবিয়তেই আছে। তবে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ক্ষেত্রে কেন ইহার অন্যথা হইল? আসলে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে দরকার সমতার বিধান। তবেই বকেয়া বিল আদায়ে সফলতা আসিবে।

জানা যায়, ইতোমধ্যে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির কর্তৃপক্ষ ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার বরাবর বিদ্যুতের পুনঃসংযোগ চাহিয়া আবেদন করিয়াছেন। সরকারি বরাদ্দ পাইলে বিল পরিশোধ করিয়া দিবার প্রতিশ্রুতিও প্রদান করা হইয়াছে। এমতাবস্থায় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কঠোর অবস্থান প্রত্যাশিত হইতে পারে না কোনোভাবেই।

এই ক্ষেত্রে জনগণের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিবার অবকাশ রহিয়াছে। উপরন্তু এই ধরনের সমস্যা সমাধানে স্বাস্থ্যকেন্দ্র কর্তৃপক্ষেরও কিছু দায়-দায়িত্ব থাকিয়া যায়। কেননা, স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের মতো একটি প্রতিষ্ঠান কখনো সুনির্দিষ্টভাবে বিদ্যুতের উপর নির্ভর না করিয়া তাহাদের কার্যক্রম পরিচালনা করিতে পারে না। বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে বৈদ্যুতিক জেনারেটর কিংবা সৌর বিদ্যুত্ও ব্যবহার করা যাইতে পারে। ইহাতে স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের বিষয়টি অনেকাংশেই নির্বিঘ্ন হয়।

Print Friendly, PDF & Email
It's only fair to share...Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn

Leave A Reply