ইছামতির তীরে স্ট্রবেরি বিপ্লব

0

Strawberry-1423486590
নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় নিউজ.কম
স্ট্রবেরি চাষে বিপ্লব ঘটেছে রাঙ্গুনিয়ার ইছামতির তীরে। জানা গেছে,স্ট্রবেরি চাষে বিপ্লব ঘটিয়েছেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার উত্তর ঘাটচেকে গ্রামের যুবক মো. ফারুক (২৬)। এক সময় অন্যের জমিতে ট্রাক্টর চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি।
এখন রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় প্রথম এবং ভিন্নধর্মী ফলের চাষ করে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে সাফল্যের সিঁড়ির নাগাল পেয়েছেন ফারুক। স্ট্রবেরির আগাম ফলনে লাখ টাকা মুনাফার স্বপ্ন দেখছেন এই উদ্যমী যুবক।
রাঙ্গুনিয়ার উত্তর ঘাটচেক ইছামতি নদীর তীরে স্ট্রবেরি বাগানে গিয়ে কথা হয় ফারুকের সঙ্গে। ফারুক জানান, এক সময় তিনি ট্রাক্টর চালাতেন। টিভিতে কৃষিবিষয়ক অনুষ্ঠানে স্ট্রবেরি চাষাবাদের উপর অনুষ্ঠান দেখে তিনি এই ফল চাষ করার স্বপ্ন দেখেন। এক সময় নিজ উদ্যোগেই অনেকটা শখের বসে স্ট্রবেরি চাষ শুরু করেন। বর্তমানে অন্যের জমিতে ট্রাক্টর চালানোর পেশা বাদ দিয়ে চাষাবাদে মনোযোগ দিয়েছেন।
ফারুক জানান, স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ নিয়ে গত তিন বছর আগে ১০ হাজার টাকা দিয়ে ২০০ স্ট্রবেরি চারা কিনে অল্প জমিতে চাষাবাদ শুরু করেন। প্রথম মৌসুমে লাভের মুখ না দেখলেও ছয় মাস পর ৪০ শতক জমি বর্গা নিয়ে ২০০ চারা থেকে ২০০০ চারা রোপন করে ফলন বাড়ান। এ বছরও একই কায়দায় জমি পরিবর্তন করে বাড়ির পাশে ৫০ শতক জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে ৩০০০ চারা রোপন করেন। সাধারণত জুন-জুলাইতে ফল পাকে। এবার আগাম ফল পাকতে শুরু করেছে ফারুকের জমিতে। গত কয়েকদিনে ফারুক প্রায় ১০ হাজার টাকার ফল বিক্রি করেছেন বলে জানান।
ফারুক বলেন, আগাম ফলন পাকতে শুরু করায় দামও একটু বেশি পাওয়া যাচ্ছে। বাজারে স্ট্রবেরির চাহিদাও রয়েছে ব্যাপক। দুইদিন পর পর গাছ থেকে ফল সংগ্রহ করলে দুই হাজার গাছ থেকে তিন হাজার ফল তুলতে পারবেন বলে জানান ফারুক। তিন হাজার ফলে ওজন প্রায় ৩০০ কেজি । বাজারে ৩০০ কেজির মূল্য প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকা হবে বলে ফারুক জানান।
বাগান থেকে স্ট্রবেরি চট্টগ্রাম শহরে বিক্রি করার জন্য এক পাইকারী ব্যবসায়ীর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন ফারুক। ঐ ক্রেতা ফারুকের কাছ থেকে কেজি প্রতি এক হাজার টাকা দরে কিনে তিনি চট্টগ্রাম শহরের নামিদামি শোরুমে সরবরাহ করবেন।
স্ট্রবেরি ফল উৎপাদনে সার, কীটনাশক, সেচ ও মজুরীসহ ফারুকের প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এই মৌসুমে ফারুক স্ট্রবেরি বিক্রি করে দেড় লাখ টাকার বেশি মুনাফা করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন ফারুক।
ফারুক বলেন, ‘পড়াশোনা বেশি করতে পারিনি। এতোদিন ট্রাক্টর চালিয়ে কোনো রকমে জীবিকা নির্বাহ করতাম। এখন স্ট্রবেরি চাষ করে নিজের এবং পরিবারের সচ্ছলতা দেখতে পাচ্ছি। আগামী বছর জমির পরিমাণ বাড়িয়ে চাষ আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।’
ফারুক বলেন, প্রথমে তিনি যখন স্ট্রবেরি চাষ শুরু করেন তখন এলাকার সকলে তাকে উপহাস করেছিল। লোকসান দিলে পথে বসা ছাড়া কোনো উপায় নেই বলে অনেকেই নিরুৎসাহিত করেছিল। বর্তমানে স্ট্রবেরি চাষে ফারুকের অভাবনীয় সাফল্য দেখে রাঙ্গুনিয়ার অনেকেই চাষে আগ্রহী হয়েছে। মরিয়ম নগরের এক ব্যক্তি তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকার চারা কিনে নিয়ে চাষ করেছেন। রাঙ্গুনিয়া ছাড়াও মিরসরাই উপজেলার বারৈয়ার হাট এলাকার মফিজুর রহমান নামে এক ব্যক্তির কাছে ৮০ হাজার টাকায় ১০ হাজার চারা বিক্রি করেন ফারুক।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান জানান, স্থানীয় কৃষি অফিসারসহ আমরা ফারুককে স্ট্রবেরি চাষাবাদে বিভিন্ন সহযোগিতা দিয়ে আসছি। ফারুকের এই সাফল্য রাঙ্গুনিয়ার কৃষির সাফল্য বলেও মন্তব্য করেন এই কৃষি কর্মকর্তা।
জাতীয় নিউজ.কম/এআর

Print Friendly, PDF & Email
Share.

Leave A Reply

Inline
Error occured while retrieving the facebook feed
Inline
Error occured while retrieving the facebook feed